Immune-Boosting Juices

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ঘরোয়া জুস রেসিপি : ৮টি পরীক্ষিত রেসিপি

আজকাল যে হারে অসুখ-বিসুখ বাড়ছে, তাতে আমাদের সবার আগে দরকার শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। আর এজন্য কৃত্রিম ওষুধের চেয়ে প্রাকৃতিক উপায়ই বেশি নিরাপদ।

বাজারের প্যাকেটজাত জুসে চিনি আর রং-এর ভিড়ে আসল পুষ্টি খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তার চেয়ে বরং ঘরেই তৈরি করুন তাজা ফল-সবজির জুস। খরচও কম, আর পুষ্টিও পাবেন ভরপুর।

কেন ঘরের তৈরি জুস বেশি ভালো?

আমাদের দাদি-নানিরা বলতেন, “ঘরের খাবারের মতো কিছু নেই।” কথাটা একদম সত্যি। বাইরের জুসে কী কী রাসায়নিক পদার্থ মেশানো হয়, তা কে জানে! কিন্তু ঘরে বানালে আপনি নিজেই জানেন কী দিচ্ছেন।

তাছাড়া বাজারে একগ্লাস জুসের দাম দেখলেই মাথা ঘুরে যায়। সেই টাকায় পুরো সপ্তাহের জন্য ফল-সবজি কিনতে পারবেন।

কোন কোন জিনিস সবচেয়ে কার্যকর?

আমাদের দেশেই পাওয়া যায় এমন কিছু ফল-সবজি আছে যেগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য খুবই উপকারী:

লেবু, কমলা, মাল্টা: এগুলোতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। আমাদের শরীরের পাহারাদার কোষগুলোকে আরো শক্তিশালী করে তোলে।

আদা: যুগ যুগ ধরে আমাদের রান্নাঘরে আছে এই মশলা। প্রদাহ কমায়, হজম শক্তি বাড়ায়।

হলুদ: আমাদের দেশের সোনালি মশলা। শুধু রান্নায় নয়, স্বাস্থ্যের জন্যও অমূল্য।

মধু: প্রকৃতির তৈরি সবচেয়ে ভালো ওষুধ। ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।

বিট, গাজর: এগুলো আমাদের দেশেই প্রচুর পাওয়া যায়। রক্ত পরিষ্কার রাখে।

জুস বানানোর সহজ পদ্ধতি

জুসার কিনতে হাজার টাকা খরচ করার দরকার নেই। সাধারণ ব্লেন্ডার দিয়েই কাজ চলে যাবে। শুধু পরে একটা কাপড় দিয়ে ছেঁকে নিলেই হল।

কিছু টিপস:

  • সকালে উঠেই ফল-সবজি কেটে রাখুন। তাহলে যখন ইচ্ছা তখনই জুস বানাতে পারবেন
  • তৈরি জুস ২-৩ দিন ফ্রিজে রাখা যায়
  • খালি পেটে খেলে বেশি উপকার পাবেন

৮টি পরীক্ষিত রেসিপি

১) আমাদের দেশি বিট-আদার জুস

এই জুসটা দেখতে যেমন সুন্দর লাল রঙের, তেমনি কার্যকরও।

  • ৩টি মাঝারি বিট (ভালো করে ধুয়ে টুকরো করুন)
  • ৪টি গাজর
  • ২টি সবুজ আপেল (পাওয়া না গেলে দেশি যেকোনো আপেল)
  • ১ ইঞ্চি আদা
  • ১টি লেবুর রস

২) পালংশাকের সবুজ জুস

আমাদের দেশে শীতে প্রচুর পালংশাক পাওয়া যায়। এই সুযোগ কাজে লাগান।

  • ৪-৫ কাপ পালংশাক (ভালো করে ধুয়ে নিন)
  • ১টি শসা
  • ২টি আপেল
  • ১টি নাশপাতি (না থাকলে আরেকটা আপেল দিন)
  • ১টি লেবুর রস

৩) কমলার বিশেষ জুস

সাধারণ কমলার রসের চেয়ে এটা অনেক বেশি কার্যকর।

  • ৪টি গাজর
  • ৩টি কমলা
  • ১টি লেবু
  • আধা ইঞ্চি আদা

৪) মিষ্টি ব্লুবেরি জুস

ব্লুবেরি দামি হলেও মাঝে মাঝে খাওয়া উচিত।

  • আধা কাপ ব্লুবেরি (না পেলে কালো জাম দিতে পারেন)
  • ১টি আপেল
  • ২ কাপ পালংশাক
  • ১টি লেবুর রস
  • ১ চামচ মধু

৫) টমেটোর রান্na করা জুস

এই জুসটা একটু ভিন্নভাবে তৈরি করতে হয়।

  • ৫টি পাকা টমেটো (বীজ বাদ দিয়ে কুচি করুন)
  • ১ চামচ মধু
  • চাইলে সামান্য লবণ

সব একসাথে দিয়ে ২০ মিনিট রান্না করুন। ঠান্ডা হলে ছেঁকে নিন।

৬) হলুদ-লেবুর শট

এটা অল্প পরিমাণে খেতে হয় কিন্তু খুবই কার্যকর।

  • ১ ইঞ্চি আদা
  • ১ চা চামচ হলুদ গুঁড়া
  • ২টি লেবুর রস

ে) শসার ঠান্ডা জুস

গরমের দিনে একদম পারফেক্ট।

  • ২টি শসা
  • কয়েকটা পুদিনা পাতা
  • ১টি নাশপাতি
  • প্রয়োজনে একটু পানি

৮) গাজর-বাতাবির জুস

  • ৩টি গাজর
  • ২টি বাতাবি লেবুর কোয়া
  • আধা ইঞ্চি আদা
  • চিমটি হলুদ গুঁড়া

গুরুত্বপূর্ণ কথা

এই জুসগুলো কোনো জাদুর ওষুধ নয়। নিয়মিত খেলে ধীরে ধীরে উপকার পাবেন। আর হ্যাঁ, অসুস্থ হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।

সবচেয়ে ভালো হয় যদি প্রতিদিন একগ্লাস করে কোনো না কোনো জুস খেতে পারেন। শুধু জুস নয়, সাথে নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম আর চাপমুক্ত জীবনযাত্রাও দরকার।

মনে রাখবেন, সুস্বাস্থ্যের জন্য কোনো শর্টকাট নেই। তবে এই প্রাকৃতিক জুসগুলো আপনার সেই যাত্রায় দারুণ সাহায্যকারী হবে।

Shopping Cart