শীতকাল এলেই আমাদের অনেকের নাক বন্ধ, গলা খুসখুস আর হাঁচি-কাশি শুরু হয়ে যায়। এমন সময় মা-দাদিরা বলেন লেবুর রস খেতে, আর আমরা দৌড়ে যাই দোকানে ভিটামিন সি ট্যাবলেট কিনতে। কিন্তু সত্যি কথা বলতে কি, এই ভিটামিন সি কি আসলেই আমাদের সর্দি-কাশি সারিয়ে দেয়?
বিষয়টা একটু জটিল। গবেষণা বলছে, আপনি যদি আগে থেকেই নিয়মিত ভিটামিন সি খান, তাহলে সর্দি একদম প্রতিরোধ হবে না। কিন্তু হ্যাঁ, অসুখের সময়টা কিছুটা কমতে পারে।
আসল ব্যাপারটা কী?
আমাদের দেশে অনেকেই মনে করেন, সর্দি লাগলে বেশি করে ভিটামিন সি খেলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। এই ধারণাটা এসেছে মূলত একজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিজ্ঞানী লাইনাস পলিং এর কাছ থেকে। তিনি বলেছিলেন, দিনে প্রায় ১৮ হাজার মিলিগ্রাম ভিটামিন সি খেলে সর্দি-কাশি সেরে যাবে। কিন্তু এটা আমাদের স্বাভাবিক চাহিদার (মহিলাদের ৭৫ মিলিগ্রাম, পুরুষদের ৯০ মিলিগ্রাম) চেয়ে প্রায় ২০০ গুণ বেশি!
২০১৩ সালে বিজ্ঞানীরা ২৯টি গবেষণা একসাথে দেখেছেন, যেখানে ১১ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিল। তাদের সিদ্ধান্ত ছিল পরিষ্কার – দিনে ২০০ মিলিগ্রাম বা তার বেশি ভিটামিন সি খেলেও সর্দি লাগার সম্ভাবনা কমে না।
তবে কিছু ভালো খবরও আছে। নিয়মিত ভিটামিন সি খেলে:
- সর্দির যন্ত্রণা কিছুটা কম হতে পারে
- বড়দের ক্ষেত্রে সর্দির সময় ৮% এবং বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ১৪% কমে যেতে পারে
কারা বেশি উপকার পেতে পারেন?
যারা সব সময় চাপে থাকেন বা খুব পরিশ্রমের কাজ করেন, তাদের শরীরে ভিটামিন সি দ্রুত কমে যায়। এদের ক্ষেত্রে ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট একটু বেশি কাজে আসতে পারে।
শরীরে ভিটামিন সি-র আসল কাজ কী?
ভিটামিন সি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি:
- জীবাণুর বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মজবুত করে
- ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যাল থেকে রক্ষা করে
- সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে
- ক্ষত সারাতে সাহায্য করে
কোথায় পাবেন ভিটামিন সি?
দোকান থেকে ট্যাবলেট কেনার আগে একবার ভেবে দেখুন। আমাদের চারপাশেই তো প্রচুর ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার আছে:
- লেবু, কমলা, মাল্টা
- আমলকী (এতে সবচেয়ে বেশি ভিটামিন সি)
- পেয়ারা
- কাঁচা মরিচ
- ব্রকলি
- টমেটো
এসব প্রাকৃতিক খাবার থেকে ভিটামিন সি পাওয়াটাই সবচেয়ে ভালো।
সাবধানতা
খুব বেশি ভিটামিন সি খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে। কারণ অতিরিক্ত ভিটামিন সি-র রেচক প্রভাব আছে।
শেষ কথা
সর্দি-কাশি থেকে বাঁচতে শুধু ভিটামিন সি-র উপর ভরসা না করে বরং:
- পুষ্টিকর খাবার খান
- পর্যাপ্ত ঘুমান
- নিয়মিত ব্যায়াম করুন
- হাত ধোয়ার অভ্যাস রাখুন
- চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন
মনে রাখবেন, সুস্থ থাকার জন্য কোনো একটি জিনিসের উপর নির্ভর না করে সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা মেনে চলাটাই সবচেয়ে ভালো।



